নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলোচিত কিশোর রিংকন বিশ্বাস (১২) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
উপজেলার চিলাউড়া- হলদিপুর ইউনিয়নের নলুয়ার হাওরে লুলু মেম্বারের খামারের গোয়ালের পাশে গোবরের ঢিবিতে রিংকন বিশ্বাসের মুখ ও মাথা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তিতে তারা উক্ত হত্যাকে গাছ থেকে পরিয়া গোবরের পানিতে ডুবিয়া দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মর্মে প্রচার করে। এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামী চিলাউরা গ্রামের মৃত সাইদুল্লাহর ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৩) ও নুরুল হকের ছেলে পাবেল প্রকাশ তাবেল (২১) কে গত ১৭ জুলাই গ্রেফতার করে পিবিআই।
রোববার (২০ জুলাই) সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, আসামীদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় । উক্ত হত্যাকাণ্ডে তারাসহ জড়িতদের নাম পরিচয় প্রকাশ করে। এ ঘটনায় বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জবাববন্দিতে জানা গেছে, আসামীরা গত ১৯ জুলাই শনিবার বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে জানায় যে, ঘটনার দিন দুপুর অনুমান ১২ টার সময় লুলু মেম্বারের খামারের গোয়াল ঘরের পাশের আম গাছ থেকে খামারের সর্ব কনিষ্ঠ কর্মচারী রিংকন বিশ্বাসকে আম পাড়ার জন্য কতিপয় আসামী নির্দেশ দিলে সেই গাছে বিদ্যুতের তার থাকায় রিংকন গাছে উঠতে রাজি হয় না। আসামীরা একাধিকবার বললেও রিংকন রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ আসামীরা রিংকনকে ধরিয়া খামারের গোয়ালের পাশে গোবরের ঢিবিতে রিংকন বিশ্বাসের মুখ ও মাথা চাপিয়া ধরিয়া শ্বাসরোধ করিয়া হত্যা করে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ জুন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন নলুয়ার হাওরে লুলু মেম্বারের মাছের খামারে রহস্যজনক মৃত্যু হয় কিশোর রিংকন বিশ্বাসের। প্রভাবশালী লুলু মেম্বার গংয়ের চাপে নিহতের পিতা শ্রিকান্ত বিশ্বাস বাধ্য হয়ে সেদিন তাকে সমাধিস্থ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ কর্তৃক ২০২৪ সালের ২৪ জুন নিহতের পিতার দায়েরী অভিযোগের প্রেক্ষিতে জগন্নাথপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়। থানা পুলিশ নিহতের মৃত দেহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২৭ জুন, ২০২৪ খ্রিঃ কবর হতে উত্তোলন করে সুরতহাল শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর থানা পুলিশ উক্ত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এর ভিত্তিতে ভিকটিম রিংকন বিশ্বাস গাছে উঠে আম পারতে গিয়ে পা ফসকে পুকুরে থাকা গোবরের মধ্যে মাথা নিচের দিকে দিয়ে পরে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরন করেছে মর্মে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করে। পুলিশ রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হওয়ায় নিহতের মা বাসন্তি রানী নিজেই বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে লুলু মেম্বার সহ ১০ জনকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে জগন্নাথপুর থানার ওসি মামলা নং-০৯ তারিখ- ১২/১১/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনালকোড রুজু করেন। স্বল্প তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আসামীদেরকে অব্যাহতি দিয়ে এক মাসের মধ্যে একই মতামত দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। রিংকন বিশ্বাসের মা এতে নারাজি দিলে বিজ্ঞ আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য চলতি বছরের ২৩ মার্চ পুলিশ সুপার পিবিআই সিলেট জেলাকে দায়িত্ব অর্পন করেন