1. info@jagannathpurview.online : জগন্নাথপুর ভিউ : জগন্নাথপুর ভিউ
  2. info@www.jagannathpurview.online : জগন্নাথপুর ভিউ :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
জরুরী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে আপনার কাছে একটি দুর্দান্ত সুযোগ! "জগন্নাথপুর ভিউ" সংবাদপত্রে জরুরী ভিত্তিতে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।
শিরোনাম :
জগন্নাথপুরে আইফোন চুরি: ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টায় প্রবাসীর বিস্ময়! জগন্নাথপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ , সহযোগী দুই যুবক গ্রেফতার জগন্নাথপুরে স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন জগন্নাথপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত: সড়ক অবরোধ শহীদ হাফিজের বিচার অবশ্যই হবে: এমপি কয়ছর আহমেদ জগন্নাথপুরে জমি ও রাস্তা দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মইয়ার হাওরে ধান কাটলেন এমপি কয়ছর আহমেদ: ১০০০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ জগন্নাথপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সুনামগঞ্জ- জগন্নাথপুর- ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ওয়ালটন ইয়ারলি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ ২য় স্থান অর্জন করলো পপুলার ইলেকট্রনিকস জগন্নাথপুর

জগন্নাথপুরে ৫ পরিবারে স্বজন হারানের আর্তনাদ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

আমিনুল হক সিপন ::

আঠারো মাস বয়সী ছোট্ট অজিহা এখনো বোঝেনি তার মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া চিরতরে সরে গেছে। সে হয়তো এখনো দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে তার বাবা নাঈম মিয়ার জন্য। কিন্তু সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (মাঝপাড়া) গ্রামের ২৫ বছর বয়সী তরুণ নাঈম এখন ভূমধ্যসাগরের অতল গহ্বরে এক নিথর দেহ। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ১৭ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, দালালের অমানুষিক নির্যাতন আর অনাহারে সেই স্বপ্ন এখন সাগরের নোনা জলে ভেসে গেছে।

দোলন মিয়া ও আঁখি বেগমের আদরের ছোট ছেলে নাঈম ছিলেন একজন ফুটবলার। জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর বাজারে একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঘর ছাড়েন। জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজের খপ্পরে পড়ে ধাপে ধাপে ১৭ লাখ টাকা খুইয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। লিবিয়া পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। সেখানে একটি অন্ধকার ঘরে নাঈমসহ আরও অনেককে আটকে রেখে চালানো হতো পৈশাচিক নির্যাতন। মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে ২০ মার্চ স্ত্রী আয়েশা বেগমকে পাঠানো এক হৃদয়বিদারক ভয়েস মেসেজে নাঈম তার বন্দিশালার নরকযন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন।

ধরা গলায় তিনি বলেছিলেন, “আমরা মারা যাবো… আমাদের কোনো খাবার নেই। পচা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি খেতে দেয়। সকালে অর্ধেক রুটি আর রাতে অর্ধেক রুটি দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।” একই নৌকায় থাকা তোফায়েল নিশ্চিত করেছেন, দীর্ঘ এক মাসের অনাহার আর দালালের বেধড়ক পিটুনি সইতে না পেরে নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাঈমের মৃত্যু হয়। পাষণ্ড দালালরা নাঈমের নিথর দেহটি মাঝপথেই উত্তাল সাগরে ফেলে দেয়।

নাঈমের পিতা দোলন মিয়ার অভিযোগ, দালালের মরণনেশা আজ একটি সাজানো পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৭ লাখ টাকা খুইয়ে আজ এক অবুঝ শিশু হয়েছে এতিম।

একই পাচারকারী চক্রের শিকার হয়ে নিখোঁজ রয়েছেন উপজেলার চিলাউড়া (লম্বাহাটি) গ্রামের ইজাজুল হক মনি। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই তিনি চিৎকার করে বলছেন, “আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, আমার কলিজার টুকরোরে আমার বুকে ফিরাইয়া দাও।” ইজাজুলের বড় বোন জুলেফা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তার ভাই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের ব্যবসা বিক্রি করে দালালের হাতে ১২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিল। দালাল দুলাল তাকে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর করত।

ইজাজুলের বোন জামাই নজরুল ইসলাম জানান, পর্তুগাল থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে দালালের ভাই পরিচয় দিয়ে অস্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে, যা তাদের উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমানের মৃত্যুতে তার ৫ বছরের মেয়ে রাইসা আফরিন মাহাকে নিয়ে স্ত্রী মোছাঃ মোছলেমা বেগম এখন দিশেহারা। আমিনুর আগে আকিজ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ছাতকের দালাল দুলাল মিয়াকে ১১ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া গিয়ে এক মাস গেইমঘরে উপোস থাকার পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি স্পিডবোটে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।

তার শ্যালক জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, দালালের অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা আমিনুর ভয়েস মেসেজে দিয়েছিলেন।

এ ছাড়াও ইছগাঁও গ্রামের মোঃ শায়েক আহমেদ এবং ইছগাঁও পশ্চিম পাড়ার বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদও (২৫) একই পরিণতির শিকার হয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে আলী আহমদ ছিলেন ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয়। তার মা রাবিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং বাবা বশির মিয়া একজন স্ট্রোকের রোগী। পরিবারের অভাব ঘুচাতে গৃহস্তির কাজ ছেড়ে গত ২১ ডিসেম্বর সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন আলী। সেখান থেকে লিবিয়া পৌঁছানোর পর চলতি মাসের ২১ তারিখ গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘গেইম’ দেন তিনি। ইছগাঁও পূর্বপাড়ার দালাল আজিজ তার কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিলেও শেষ পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের খবর শোনার পর থেকে মা-বাবার কান্না থামছে না। মা সাংবাদিক দেখলে চিৎকার করে বলছেন, “তোমরা আমার ছেলেরা ফিরাইয়া আনতায় পারবায়নি, যাও এখান থেকে।”

আলীর চাচাতো ভাই আশিক মিয়া জানান, দালালের খপ্পরে পড়ে একটি সাজানো পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ভয়ংকর মানবপাচার চক্রটি ছাতকের শক্তিরগাঁও গ্রামের দালাল দুলাল মিয়া, তার ভাই বিল্লাল এবং ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তারা প্রথমে ইউরোপের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এবং পরে লিবিয়ার দুর্গম বন্দিশালায় ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে আরও টাকার জন্য চাপ দেয়। সেখানে দিনের পর দিন অভুক্ত রেখে এবং পচা পানি খাইয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। জগন্নাথপুরের এই ৫টি পরিবারে এখন শুধু মাতম আর প্রিয়জনের ফেরার দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© জগন্নাথপুর ভিউ
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট