নিজস্ব প্রতিবেদক :
জগন্নাথপুর থেকে চুরি হওয়া আইফোন উদ্ধারের বর্ণনা দিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিজাম মিয়া মাখন। বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে তার দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু উক্ত সংবাদ গুলোর কমেন্টে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক বিষয়টিকে সাজানো নাটক দাবি ও ফেসবুক পোস্ট করে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে নেওয়ার চেষ্টায় তিনি বিস্মিত!
সোমবার রাতে অনলাইন পোর্টাল জগন্নাথপুর ভিউকে বর্ণনা দেন পৌর এলাকার ছিলিমপুর নিবাসী মৃত হাজী ওয়াব মিয়ার পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিজাম মিয়া মাখন।
তার বক্তব্য- "সিসিটিভি ফুটেজে চোর শনাক্তের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টিকে 'সাজানো নাটক' বলে প্রচার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নিজাম মিয়া বলেন, গত ১৮ এপ্রিল স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্যায়ে বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রচণ্ড ভিড়ের সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে পকেট থেকে 'আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স' চুরি হয়ে যায়। ফোনটি খোয়ানোর পর প্রাথমিকভাবে দুজনকে সন্দেহ করেন এবং ভুলবশত ছবি তুলতে আসা এক তরুণকে আটকে ফেলেন। তবে উপস্থিত লোকজন তাকে নির্দোষ দাবি করায় সেই তরুণকে ছেড়ে দেন।
পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথপুর থানায় বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ আইএমইআই নম্বর চায়। তখন তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তার মেয়ের সহায়তায় আইএমইআই নম্বর সংগ্রহ এবং ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং করেন। তার মেয়ে লন্ডন থেকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানান যে, ফোনটি পৌর পয়েন্টের মাহিমা রেস্টুরেন্ট ও ডলফিনের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক খোঁজাখুঁজি করে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন বিদ্যালয় মিলনায়তনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। জগন্নাথপুর থানার ওসির সহযোগিতায় ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর সন্দেহ করা সেই দুই ব্যক্তির আড়ালে থেকে পেছনের চেয়ারে বসা এক ব্যক্তি কৌশলে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ফোনটি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছে। এর কিছুক্ষণ পর আবারও যুক্তরাজ্য থেকে ফোনের সর্বশেষ লোকেশন কামাল কমিউনিটি সেন্টারের আশেপাশে বলে জানানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় লিমান ভূঁইয়া ও শহীদুরসহ কয়েকজন কামাল কমিউনিটি সেন্টারে যান । সেখান থেকে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার টংগর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল খানকে মোবাইলসহ আটক করা হয়।
পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল তার অপরাধ স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধ না করার অঙ্গীকার করে। ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা প্রতারণা না করার এবং জগন্নাথপুর ছেড়ে চিরতরে চলে যাওয়ার শর্তে একটি লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিজাম মিয়া মাখন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে চুরির ঘটনার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও ভিকটিমের বিরুদ্ধে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ সাধ্যম ফেসবুকে যারা একে 'সাজানো নাটক' বলছেন, তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে তিনি স্তম্ভিত।
এ সময় উপস্থিত তাঁর ভাতিজা ভুক্তভোগী ইসমাইল মিয়া জানান, সার্টিফিকেট সংশোধনের নামে ইকবাল তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাড়ে তিন বছর ঘোরালেও কোনো কাজ করে দেয়নি। এছাড়া সাধারণ মানুষের এনআইডি কার্ড সংশোধন ও উত্তোলনের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত