নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত দুই দিনের অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১২টি হাওরের চিত্র এখন অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে উপজেলার প্রধান শস্যভান্ডার নলুয়ার হাওরসহ সবকটি হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় অর্ধেকের বেশি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে হাওরে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার একমাত্র ভরসা হারভেস্টার মেশিনগুলো আর পানিতে নামতে পারছে না। ফলে যান্ত্রিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে ৫৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও বাকি ৪৫ শতাংশ ধান এখন পানির নিচে। একদিকে মাঠের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মেশিন নামাতে না পারায় হাতে কাটা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। আগে যেখানে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ৬০০-৭০০ টাকা, এখন পানির নিচে ধান কাটতে ১ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে এখন হাহাকার বিরাজ করছে।
নলুয়ার হাওরের কৃষক আরশাদ আলী জানান, ২০ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ৩ কেদার কাটতে পেরেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারিভাবে মেশিনের ভাড়া ১৫০০ টাকা হলেও দালালের খপ্পরে পড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়েও এখন মেশিন পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ মেশিন এখন পানিতে নামতেই পারছে না। কৃষক আমির হোসেন বলেন, দালালরা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে কিন্তু পানির কারণে মেশিন অকেজো হয়ে বসে আছে। একইভাবে কৃষক দিলোয়ার হোসেন লিলু মিয়া জানান, তার ২০ কেদার জমির মধ্যে ১৫ কেদারই এখন পানির নিচে। অনেক কৃষক ধান কাটার পর বৃষ্টির কারণে তা বাড়িতে নিতে না পারায় মাঠেই ধানে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষক আকবর হোসেনের মতো অনেকেই এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাওসার আহমেদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যান্ত্রিক উপায়ে ধান কাটায় সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত