মোঃ সানোয়ার হাসান সুনু :
আজ ৩০শে মে মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী। এদিন তিনি চট্টগ্রামে বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মম ভাবে প্রান হারান। মৃত্যুর খবরে দেশবাসী শোকাহত হয়ে পড়েন। তার মৃত্যু ছিল দেশের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি। স্বল্প সময়ের শাসনে তিনি দেশে বৈপ্লবিক উন্নতি করেছিলেন। মানুষের মধ্য স্বস্হি ফিরে এসেছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলদেশের স্বাধিনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন রাষ্ট্রনায়ক।
কিংবদন্তী নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সৎসাহসী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার মুসলমান ও সত্যিকারের দেশ প্রেমিক। সংবিধানের শুরুতেই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এবং সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাকের উপর পূর্ন আস্হা ও বিশ্বাস সংযুক্ত করেছিলেন। যা এদেশের প্রতিটি মুসলমান হৃদয়ে ধারন করেন। এ থেকেই বুঝা যায় তিনি খাঁটি ঈমানদার ছিলেন। বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা উদার গনতান্ত্রীক শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুধ্বে সোচ্চার কন্ঠ। স্বামী জিয়াউর রহমানের পথে- ই হেটেছিলেন মাজলুম দেশনেত্রী সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমরা প্রত্যাশা করি বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে হাটবেন তরুন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমন। আমাদের সবাইকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
শেখ মুজিবুর রহমান যখন ৪টি পত্রিকা বাদে সকল সংবাদ পত্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব পেয়ে সকল পত্রিকা উম্মুক্ত করে দিয়েছিলেন । সকল দল রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পায়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আসে। মানুষের বাক স্বাধিনতা ফিরে আসে। সার্বিক অর্থে তিনি ছিলেন উদার গনতান্ত্রিক।
৭৫ পরবর্তী এক গভীর সংকটকালে জিয়াউর রহমানের উপর এই দেশের শাসন ক্ষমতা অর্পিত হয়।
তখন দেশে কোন সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল ছিল না। ছিল না সুসংহত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সামরিক বাহিনীও ছিল খণ্ডবিখণ্ড।
চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি, চাঁদাবাজি, খুন-জখম-ধর্ষণ, রাজনৈতিক অস্থিরতায় যখন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্নের পথে, তখনই সেনা নায়ক জিয়াউর রহমান হাজির হলেন তার সততা, সঠিক দিকনির্দেশনা, জনগণের প্রতি তার সহমর্মিতা ও সুশাসনের এক যুগান্তকারী ম্যাজিক নিয়ে।
তিনি পুলিশ বাহিনীকে বৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে এর সূচনা করেন এবং নিজেই এর তদারকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দেশের বিভিন্ন ইনটেলিজেন্স এজেন্সিগুলোকে তৎপর করে, প্রশাসকদের এই বিষয়ে সজাগ রেখে, এবং প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি মনিটরিং এর মাধ্যমে বিধ্বস্ত একটি দেশকে টেনে তুলেন।
অনেকে তাঁর কাছাকাছি থেকে তখন লক্ষ করেছেন, গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নিজে কথা বলতেন বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে। জানতে চাইতেন দূরবর্তী জেলাসমূহে জনগণ শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন কী না। একজন জেলা প্রশাসক বা জেলার এসপি যখন রাত্রি একটার দিকে স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধানের কণ্ঠস্বর শুনতে পান সেই জেলায় অপরাধের বিস্তৃতি হয় কীভাবে? অন্যদিকে দলের বিভিন্ন এলাকার দায়িত্ব শীল ত্যাগী নেতাকর্মী দের তিনি ফোন দিয়ে এলাকার খোঁজখবর রাখতেন বলে জানাযায়।
তাছাড়া নিজস্ব উৎস থেকেও তিনি বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং এসব বিষয়ে প্রশাসকদের সাথে মত বিনিময় করতেন। নির্দেশ দিতেন কীভাবে অপরাধ নির্মূল করতে হবে। এভাবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র বছরখানেকের মধ্যে দেশে অপরাধের মাত্রা কমে আসে অকল্পনীয়ভাবে।
এছাড়াও, ১৯৭৭ সালের পর থেকে যখন তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর শুরু করেন, কোন কোন স্থানে অকস্মাৎ উপস্থিত হয়ে খবরাখবর নেয়া শুরু করেন, তখন থেকে আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা আরো উন্নত হয়ে ওঠে। যে ব্যুরোক্র্যাসী স্থবির বলে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল তাও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে আশাতীতভাবে, মাত্র বছরখানেকের তদারকির ফলে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততার কারণে দালাল- বাটপার নানা অপরাধে লিপ্ত দূষ্কৃতকারীরা তার কাছে ঘেষতে পারেনি। তিনি সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় ন্যায়পরায়ণতার সাথে দেশ শাসন করায় শহীদ জিয়ার শাসনকাল ছিল সুশাসনে ভরপুর। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি এই প্রিয় নেতাকে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ তিনি উনার সমস্ত ভূলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।আ-মীন ।
লেখক:
মো: সানোয়ার হাসান সুনু
প্রতিনিধি :দৈনিক যুগান্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট ভিউ
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত