নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে একশোর বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী আসায় অনেককে হাসপাতালের নোংরা মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বহির্বিভাগে টিকিট কাটতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় বরাদ্দকৃত খাবার।
অনেক সময় ভাগাভাগি করে দিতে হয়, ফলে রোগীরা পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া ল্যাব-আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি সেবা কোনোমতে চালু থাকলেও সফটওয়্যার সমস্যার কারণে এক সপ্তাহ ধরে এক্স-রে মেশিন নিবন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও রোগীদের বেশিরভাগ ওষুধ ও টেস্ট ডা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। পুরো হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়েbআছে, বাথরুমগুলো জরাজীর্ণ এবং সিসি ক্যামেরার অধিকাংশ নষ্ট।
জানা যায়, হাসপাতালের এই বেহাল দশার মূল কারণ তীব্র জনবল সংকট। এই হাসপাতালে সহকারী সার্জনের ৩টি পদের সবকটি এবং একমাত্র এনেসথেটিক্স পদটি শূন্য রয়েছে। জরুরি মেডিকেল অফিসারের ৪টি পদের মধ্যে ৩টি, মেডিকেল অফিসার ৪টি পদের মধ্যে ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৪০টি পদের মধ্যে ২১টি এবং মিডওয়াইফ ৫টি পদের মধ্যে ৩টি পদই শূন্য। এছাড়া বিভিন্ন শাখায় চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় সব পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কন্সালটেন্টদের একাংশ - নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। জরুরি রোগীদের রেফার করা হলে পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যার সুযোগ নিচ্ছে বাইরের দালাল চক্র।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হালেয়া গ্রামের রোগী ফয়জুল ইসলামের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই দিনে রক্তের কয়েকটি পরীক্ষা ও ইউরিন টেস্ট বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে করাতে হয়েছে। অথচ এখনও রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। হাসপাতালের ভেতরেই সরকারি ওষুধ ও পরীক্ষা পাওয়ার কথা থাকলেও সবকিছু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
উপজেলার চিলাউড়া গ্রাম থেকে আসা সুহেল মিয়া তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে বলেন, একদিন পার হয়ে গেলেও ওয়ার্ড বা বাথরুম পরিষ্কার করা হয়নি। নোংরা পরিবেশের বিষয়ে নার্স বা স্টাফদের কিছু বলতে গেলে তারা উল্টো রোগীদের ওপর রাগ করেন। ডাক্তার ও নার্সরা রাউন্ডে আসলেও এই নোংরা পরিবেশ তাদের চোখে পড়ে না।
সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় জানান, 'সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেড ও আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে। এক্স-রে মেশিনের ত্রুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকৌশলী এলেই এটি সচল হবে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদারের আশ্বাস দেন তিনি।'
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত