নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর ও নতুন কসবা গ্রাম সংলগ্ন নদীগর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আনলোড করায় চরম হুমকিতে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও ঘরবাড়ি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরের পরও বালু দস্যুদের এই তাণ্ডব থামানো যাচ্ছে না। গত দুই সপ্তাহ ধরে 'মা এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি প্রতিষ্ঠান অলৈতলী ও খানপুর মৌজার অংশে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, কুশিয়ারা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় ভাঙনকবলিত এই অঞ্চলে নতুন করে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভাঙন থেকে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষা করতে এবং বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে জালালপুর গ্রামের জাহির আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এর আগে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বালু উত্তোলন বন্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে ‘ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্স’-এর আইনজীবী বিপ্লব কুমার পোদ্দার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ ও উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এলাকাবাসী।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে কুশিয়ারা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএ, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলৈতলী ও খানপুর মৌজার সীমানায় কুশিয়ারার বুক চিরে হরদম বালু তোলা হচ্ছে।
এদিকে, ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্সের লিগ্যাল নোটিশের জবাবে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ২৪ মে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি পাঠান। ওই প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুহসিন উদ্দীন উল্লেখ করেন, কুশিয়ারা নদীর জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে কোনো বালুমহাল নেই এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি।
হাইকোর্টে রিটকারী জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুশিয়ারার করাল গ্রাস থেকে বসতভিটা ও এলাকাবাসীকে বাঁচাতে উচ্চ আদালতে গিয়েও আমরা রক্ষা পাচ্ছি না। প্রশাসন হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করছে না, যার ফলে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অংশে মা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তফসিলভুক্ত নিজস্ব জায়গায় বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে। সরকারি নিয়ম ও শর্ত মেনে তারা এই কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। নদীভাঙন কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করে নদীগর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত