নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত 'ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য ভাণ্ডার' কর্মসূচীর আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি লিখিত কিংবা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম স্থান পাওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে যোগ্য ও মেধা সম্পন্ন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে মনগড়া ফলাফল প্রকাশের প্রতিবাদে এবং এই বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াগাঁও গ্রাম থেকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদন করেন সুলতান আহমেদ ও বিউটি বেগম। তারা দুজনে যথানিয়মে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। অথচ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও নয়াগাঁও গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে জুলি বেগমকে ৪৩ নম্বর ক্রমিকে চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। পরীক্ষা না দিয়েও তালিকায় নাম উঠে আসার এই ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে চরম প্রশ্ন ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী সুলতান আহমেদ।
স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিতর্কিত এই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ও বঞ্চিত প্রার্থীরা। অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সত্ত্বেও স্রেফ রাজনৈতিক পরিচয় না থাকা এবং প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশ না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং তাদের স্বজনদের একচ্ছত্র প্রাধান্য দিয়ে দুর্নীতিমূলক তালিকা তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরীক্ষা না দেওয়া প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় চলে আসা প্রমাণ করে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কতটা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
অভিযুক্ত জুলি বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলেন, তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন কি দেননি সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। অন্যদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানান, তদন্তে এ ধরনের কোনো দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে নাম বাদ দেওয়া হবে।
নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন জানান, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা না দিয়ে তালিকায় নাম আসার লিখিত অভিযোগটির সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও দলীয় প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির কথা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।
সচেতন মহল মনে করছেন, একটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচীর শুরুতে এভাবে দুর্নীতি হলে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত দুস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জগন্নাথপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রকাশিত বিতর্কিত তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় স্বচ্ছ পরীক্ষা নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা।
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত