বিশেষ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের ইসহাকপুর গ্রামে জায়গা নিয়ে ইউএনও অফিসে শুনানির শেষে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে হাজ্বী জিলু মিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেফা বেগম। বলেন
আমি ব্রিটেন প্রবাসী সেফা বেগম জগন্নাথপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মরহুম আব্দুল কুদ্দুস টাকই মিয়ার এর ছোট মেয়ে।
আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি দেশে থাকা আমার বৃদ্ধ মা এবং বোন তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন।
বিগত কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মিথ্যাচার আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। জিলু মিয়া নামের একজন প্রবাসী তিনি আমার চাচা আমার আব্বার আপন চাচাতো ভাই হন। পারিবারিকভাবে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ছিল।
২০২১ সালে আমার আব্বা হঠাৎ করে মারা যাওয়ার পর চাচা জিলু মিয়া আমাদের পরিবারের প্রতি বিভিন্নভাবে অমানবিক আচরণ করলেও আবার ইন্তেকালের পর চার পাঁচ মাস থেকে তার আচার-আচরণ খারাপ দেখা যায়।
তিনি আমার আম্মাকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন। যা আমার জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
চাচা জিলু মিয়া প্রথমে আমার বাড়ির উঠানের দেয়াল করে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেন। আমরা সবাই একই পরিবারের মতে এক বাড়ীতে বসবাস করলেও চাচা জিলু মিয়া সাজানো একটি বৃহত্তর পরিবারকে এক নিমিষেই আলাদা করে পেলেন। গত কয়েক দিন ধরে আমার -মায়ের একটা বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন জিলু মিয়া।
আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে আমাদের পরিবারকে নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দিন।
বিগত কয়েকদিনের কর্মকাণ্ড, আমরা নিশ্চয়ই জিলু মিয়া সাহেবের বক্তব্য থেকে শুনেছি তিনি আমাদের পরিবারের সাথে অন্যায়ভাবে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এবং এটাও বলেছেন যে আমরা উনার জায়গা দখল করে নিয়েছি! চাচার এ কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। চাচা আমাদের জায়গা কোনো কাগজ ছাড়াই দখল করতে আমার বিধবা মাকে চাপ প্রয়োগ করেন।
কিন্তু আমার মা রাজি না হওয়ার কারণে তিনি প্রথমে হুমকি দামকি দিয়ে আসেন। আমাকে তার প্রস্তাবে রাজি না করতে পেরে বাড়ীতে দেওয়াল তুলে দেন।
যা আমার মায়ের জন্য কষ্টের হয়ে ধারায়। এই বাড়ীর বড় বউ হিসাবে তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। এতে এই বাড়ীর অনেক পরিবার কষ্টের মধ্যে পড়ে।
কিন্তু চাচা জিলু মিয়া আমাদের সম্পত্তি তার ইচ্ছামতো বোঘদখল করতে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আসছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো,পুলিশ প্রশাসন ন্যায় বিচারের পক্ষে থাকায়, জিলু মিয়া প্রশাসনকে গালিগালাজ করেছেন।
আমার আম্মা ও আমার দুই বোন হলাম আমাদের বাবা মরহুম আব্দুল কুদ্দুস টাকই মিয়ার ওয়ারিশগণ।আমি সেফা বেগম ইউকেতে এবং আমার বোন স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করেন। আর আমার আম্মা ৬৪ বছরের বৃদ্ধা মানুষ, তিনি স্বামীর ভিটা আকড়ে ধরে আছেন। কিভাবে জিলু মিয়ার সাথে বিরুদ্ধে লিপ্ত হবেন। আমার মায়ের কোন পুত্র সন্তান নেই যে আমার মায়ের পক্ষ নিয়ে চাচার সাথে বিবাদ করবে। আর আমার মায়ের ৬৪ বছর বয়সী নানা রোগে আক্রান্ত মা কীভাবে হাজী জিল্লু মিয়ার মতো একজন মানুষের সাথে বিরোধে লিপ্ত হন?
আমরা সব সময় আমাদের গোষ্ঠীর মুরব্বি, এলাকার মুরব্বিদের কাছে সমাধান চেয়েছি। মুরব্বিগণ মন-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন কিন্তু আমার চাচার হিংসামূলক ব্যবহারের কারণে আমরা যেন নিরাপত্তাহীন ভুগছি। আমার মায়ের কোন নিরাপত্তা নেই। চাচা আমার বৃদ্ধ মা সহ গোষ্ঠীর অনেক মুরব্বিদের উপর মামলাও করেছেন। গোষ্ঠীর মুরব্বিরা ন্যায় বিচারের জন্য আমার আম্মাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন।
এদিকে ২০২৫ সালে এই জায়গা নিয়ে জিলু মিয়া ও তানের বড় ছেলে জিতু মিয়া দেশে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করেছিলেন, পরবর্তীতে এলাকার কাউন্সিলর শাহিন মিয়া ও মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়। ততকালীন সময় জিলু মিয়া এই জায়গা নিজের বলে দাবি করেন না, তাহলে এক বছর পরে তিনি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এই জায়গা তার বলে দাবি করেন।
আমি বিশেষ করে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জগন্নাথপুর থানার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার আম্মাকে সম্মান করছেন এবং মানসিক সাহস দিবেন।
আমি আমার চাচার মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং উনার কাছে অনুরোধ করছি নোংরা মিথ্যাচার বন্ধ করতে। এবং সেই সাথে এতিমের সম্পত্তি থেকে নিজের চোখ সরিয়ে নিতে।
আমি আমার মায়ের সার্বিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার কামনা করছি। আমি চাইনা আমাদের ধারা কারো অধিকার নষ্ট হউক। এবং কেউ যেন আমাদের অধিকার অন্যায় ভাবাে নষ্ট না করেন।
কার্যালয়ঃ ডাকবাংলো রোড, জগন্নাথপুর আ/এ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।
যোগাযোগ : (মোবাইল ও হোয়াটস্অ্যাপ) 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟏𝟏𝟎𝟒𝟒𝟒𝟖, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟔𝟎𝟐𝟑𝟏𝟒𝟎, 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟖𝟎𝟎𝟔𝟔𝟕
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত