
নিজস্ব প্রতিবেক :
জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্টের জাল এবং মাছ ধরার ফাঁদ ‘কিরনমালা পটছাই’ জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জগন্নাথপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসিন উদ্দিন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্যজীবী হাওরে নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ পেতে দেশীয় মাছের পোনা ও মা মাছ নিধন করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে প্রায় ২ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টের জাল এবং ১ হাজার পিস বিশেষ ধরনের মাছ ধরার ফাঁদ (কিরনমালা পটছাই) জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত এসব অবৈধ জাল ও পটছাই জনসম্মুখে মইয়ার হাওর পাড় জগন্নাথপুর কাঠ বাজার সংলগ্ন স্থানে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকারিরা নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসিন উদ্দিন জানান, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির এই সময়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুই হাওরে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। যারা আইন অমান্য করে মা মাছ ও পোনা নিধন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আগামীতেও এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন মৎস্যসম্পদ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারেন্টের জাল ও কিরনমালা পটছাইয়ের মতো ক্ষতিকারক ফাঁদ আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এবং পোনা মাছের অবাধ বৃদ্ধির স্বার্থে জেলে ও সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী যেকোনো অপতৎপরতা বন্ধে মৎস্য বিভাগের এই তদারকি নিয়মিত বজায় থাকবে।