
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সংঘবদ্ধ হামলায় আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত আসামি দুখু মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার চকেরবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুখু মিয়া জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের পীরেরগাঁও গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরেরগাঁও গ্রামের নিহত মতিউর রহমান (৪৮) ও তার চাচাতো ভাই মুজিবুর রহমানের (৪১) পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা, সরকারি খাস ও পতিত জমিতে গবাদিপশু চরানো এবং বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তায় চলাচল নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রতিপক্ষরা প্রায়ই মতিউর রহমানের লোকজনকে চলাচলে বাধা ও হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দুই দিন আগে হাওরের পুকুরে পানি নিষ্কাশন ও মাছ ধরা নিয়ে মতিউর রহমানের ভাতিজা আলমগীরের সঙ্গে মামলার অপর আসামি আলী মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল
আনুমানিক ৯টার দিকে মতিউর রহমান মাঠে গবাদিপশু চরাতে যাওয়ার পথে আব্দুল হামিদের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছামাত্র আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে ভাই আতাউর রহমান ও চাচাতো ভাই মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মতিউর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত মুজিবুর রহমান ও আতাউর রহমানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমানও মারা যান। এ ঘটনায় নিহত মতিউর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব-৯। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ কোম্পানি) এবং সদর কোম্পানির একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার চকেরবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুখু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জগন্নাথপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।