
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়ক সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি নিরসনে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় দক্ষিণ জগন্নাথপুর গণদাবি পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এতে অংশ নেন।
শিবগঞ্জ বাজার থেকে লংমার্চটি শুরু হয়ে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে কাতিয়া, পাইলগাঁও, কুবাজপুর, রমাপতিপুর, দোস্তপুর, ইছগাঁও, ঘোষগাঁও ও টিয়ারগাঁওসহ আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজেহাল ও যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সুস্থ মানুষ যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তেমনি গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া চরম কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় এই এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গণমানুষের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের যে উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন তা দৃশ্যমান নয়। বক্তব্যে তারা সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ এবং সড়কটির দ্রুত টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে জোরালো দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, এলাকার মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করা না হলে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সাথে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সড়ক খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

দক্ষিণ জগন্নাথপুর গণদাবি পরিষদের আহবায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক মাসুম আহমদের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ আখতারুজ্জামান রিয়াদের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা দরছ উদ্দিন, ব্যবসায়ী মো. আবদুল বাছিত সুমন, কুবাজপুর হযরত ফাতিমা (রা.) একাডেমির পরিচালক হাফিজ আবু তাহের, বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব মো. জেবুল মিয়া, ঘোষগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আখতার হোসেন, সহকারী শিক্ষক মো. জিকরুল আলম, মো. মিলন মিয়া, ইছগাঁও মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাও. মুজাহিদ খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. ফরহাদ মিয়া, দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাও. হাবিবুর রহমান, মো. সুহেল আহমদ, মো. খলিল চৌধুরী ও মো. রিয়াজ মিয়া প্রমুখ।