
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৩নং মীরপুর ইউনিয়নের অধীনস্থ ঐতিহ্যবাহী আটঘর গ্রামের “আটঘর দক্ষিণপাড়া থেকে বিটির লামা রাস্তা” টি দ্রুত আরসিসি ঢালাই করে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান।
মঙ্গলবার বিকেলে তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই লিখিত আবেদন জমা দেন।

আবেদনকারী এম এ মালেক খান ‘৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাংলাদেশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। ঐতিহ্যবাহী আটঘর গ্রাম তার জন্মস্থান।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটঘর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন অলিকুল শিরোমণি মজরদ ইয়ামনী হযরত শাহজালাল (রহঃ) এবং হযরত শাহপরাণ (রহঃ) সহ ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হাজী শাহ শামস্ উদ্দিন বিহারী (রহঃ)। তাঁর স্মৃতি বিজড়িত আটঘর গ্রামের অত্যন্ত প্রাচীন “আটঘর দক্ষিণপাড়া থেকে বিটির লামা” রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত বছরগুলোতে উপর্যুপরি বন্যায় উক্ত রাস্তাটি ২ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তায় স্থানে স্থানে গভীর গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে শিশু-কিশোর, বয়স্ক মানুষ, পথচারী এবং গবাদি পশু জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে মোটরবাইক, রিকশা, সিএনজি চালিত গাড়ি প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এমতাবস্থায় গ্রামের স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, আউলিয়ার মাজারের জিয়ারতকারী ও মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তাটি দ্রুত আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আটঘর গ্রামবাসীর পক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন থাকায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন জানিয়েছি এবং আশা করছি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়কটি আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।