
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অটোরিকশা চার্জের মাত্র ৫০ টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানে ইমরান।

নিহত ইমরান হোসেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। গত ৮-৯ বছর ধরে তারা সপরিবারে সৈয়দপুর গ্রামে হাসন চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে বাদশাহ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা চার্জ দিয়ে ৫০ টাকা কম দিতে চাইলে গ্যারেজ মালিক বাদশাহ ও তার সহযোগী জাকির উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা রিকশার জিআই পাইপ, মুগুর ও সুপার গাছের কঞ্চি দিয়ে ইমরানকে বেধড়ক মারধর করেন। প্রচণ্ড আঘাতে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করেন। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সকালে সে মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে জাকিরকে (৩৫) কে আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত বাদশাহ মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে। ধৃত জাকির সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) এলাকার মৃত আব্দুর রুপের পুত্র।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ লাকু মিয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি বারবার বারণ করলেও কিশোরটিকে তারা নির্মভাবে আঘাত করে। হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
নিহতের চাচা আকিদ আলী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে জাকির নামের একজনকে আটক করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।