
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জগন্নাথপুরে চলমান অনেক উন্নয়ন কাজ ঠিকাদাররা ফেলে রেখে চলে যায়, জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমনটা আর বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ কয়ছর আহমেদ।
তিনি বলেন, এখন থেকে যে ঠিকাদার কাজ নেবেন, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের আয়োজনে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও সেবার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত এক জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধানশীর্ষক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমি মেলা বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণকে ভূমি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি সেবাকে সহজ করতে ভূমিমেলা চালু হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভূমি নিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে, বিষয়গুলো আদালতে গড়াচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি ভূমি মামলাও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি শোনেননি। আমাদের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আরও বাড়াতে হবে। অনেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ভূমি আইন বা এর সঠিক নিয়মাবলি সম্পর্কে জানেন না। সরকারি জমির অপব্যবহার রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধান অতিথি আরও বলেন, জমি একসনা বন্দোবস্ত এনে সেখানে কোটি টাকার বিল্ডিং তোলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মনে রাখতে হবে, সরকার চাইলে যেকোনো সময় সেই ভূমি ফেরত নিতে পারে। এছাড়া সরকারি ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে তা অন্য কারও কাছে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনি।
সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মহসিন উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, জগন্নাথপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর আল আমিন, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল এবং জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মুকিত, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ মতিন, সাংবাদিক শাহজাহান মিয়া ও আল আমিন।
সভায় বক্তারা ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা নিরসনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান এবং সাধারণ মানুষকে ভূমি আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।